কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

চলো একদিন

চলো যাই সেখানে,
নীলিমার নীল রং 
যেখানে কেড়ে নেয় ঘন সবুজ,
যেখানে সবুজ ছাপিয়ে 
দিগন্ত টেনে দেয় কমলা আভা।

চলো যাই সেখানে,
স্বচ্ছ জলের স্থবিরতা 
যেখানে ঠাঁই পায় না জঙলী কুহুতানে।
যেখানে স্নান সেরে মাছগুলোও
মিশে যায় কালচে সবুজের গায়ে।

চলো যাই সেখানে,
চায়ের পাতার রঙে 
যেখানে শরীর ভেজায় মানুষ।
যেখানে নদী প্রবাহিত
পাহাড়ের গা বেয়ে সমতলের দিকে। 

চল একদিন সবাই 
মিলে মিশে একাকার হই
প্রকৃতির নানা রঙে, বহু ঢঙে। 
চলো একদিন আবার
খুঁজে ফিরি নিজেকে
ভেসে বেড়াই বৈরাজ্ঞের আনন্দে। 


[[কিংশুক২০১৮আগস্ট১১শাহজাহানপুর,ঢাকা০৩৩৫]]



সাদাকালো ধারকী

দেহখানি অনাবাদি টলমলে 
আঁধারের আলোকে অলকের দিক ভ্রম 
জোনাকির ভ্রমণেতে কিবা দেখি চোখমেলে 
ছায়াখানা দুর্বল চঞ্চল প্রেম 

প্রদীপের দিয়াগুলি করিতেছে নৃত্য 
কেবা তুমি? কেবা আমি? কাহাদের ভৃত্য?
পাহাড়ের গাল বেয়ে কপোলের অশ্রু আল্পনা 
নেমে আসে সাগরের নোনা জলে 
                   স্নানরত অমৃতাংশুর মৃত্যুর কল্পনা 

মোম-গলা-আলোতে আবছায়া-অশরীরীর অবয়ব 
মানুষের মানসে – চেত-চিন্তন, অধীরতা,
ত্রাস সঞ্চারি অভিশঙ্কা আর উদ্বেগ বারতা 
মননের মনে কেন এত অভিশঁকা? – বিভাভর শ্বরতুল অনুভব
মিথ্যে সত্যে মিশে কেন সত্য-মিথ্যা ঠিক-ভুলদের কলরব?

দিবসের ফুসরতে ব্যস্ত জীবনেতে 
নেমে আসে সন্ধ্যা এক ঘর হলদেটে আলোতে 
প্রশ্নের সম্মুখে ধুম্রের কল্কিতে 
কুহকের আগুনেতে ছারখার সংগীতে 
গল্পের ঝগড়াটা কবিতায় রূপ নিতে নিতে 
মরে মরাগুলি উদ্ভাবনে রয়েছে যে উত্তর উত্তরেতে 
নিয়তই নিয়তির অপেক্ষাতে। 

[[কিংশুক২০১৮জুলাই৩১ব্র্যাকইউ,সাভার০৩৫৬]]

উৎসর্গ: রজনীর একশো একে বিন্দু টর্চের আলোতে বসে আড্ডা দেয়া কতিপয় দিশেহারা পাগলাটে সাদাকালো মানুষকে। 

শব্দার্থ:
অনাবাদি ― স্থবিরোতাহীন, অমীমাংসিত
অলক ― মাথার চুল বা খোঁপা
অমৃতাংশু ― চাঁদ
মানস- মন
চেত - ভয়
অভিশঙ্কা -  ভয়ের সংশয়
মনন - মন, চিন্তা
অভিশঁকা ― আশঙ্কা , চেতনা
বিভাভর ― বিচ্ছেদ, ভাগ করা
শ্বরতুল্য ― ঐশ্বরিক



আটচল্লিশে আঠারোটি রজনীগন্ধা

বারো টার ঠিক পরে
একশো এক নম্বর ঘরে,
এক কাপ কফি হাতে
ডর্মমেটদের সাথে ―
কখনো দর্শন কখনো গণিতে
কখনো বা ঝালমুড়িতে,
নিশাচর আড্ডা জমে ওঠে
রজনীগন্ধার জ্বলন্ত ঠোঁটে ।

যুক্তির ডালপালা
খুশি খুশি হাসিদের মেলা,
ডুবে যাই 'ডেভ'– 'হামে'
গ্রুপ স্টাডির নামে।
বারান্দাতে রেহান স্যার
এত রাতে আর কাজ নাই তার?
প্রশ্ন জাগে মনের ভেতর ―
আরএস জীবন মানবেতর?

আড়াইটা বেজে গেলে
ডর্ম টিউটর নীচে এলে,
দল বেঁধে ভাই ভাই
একসাথে সেহরিতে যাই।
শেষ রাতের আধারে
ঘুম ঘুম চোখ বাড়ে;
সকালে ক্লাস সবার
ঘুমাও, যদি মিস হয় আবার।

ক্রিং প্রিং আলার্মের খটোমটো
ওঠো ওঠো অন্বেষার ক্লাসে ছোটো,
ক্লাস শেষে সার্কেল, সার্কেল গড়ে উঠে,
কেউ কেউ ব্যস্ত; আনন্দপুরে সুর ছোটে।
বিকালে তো বাস্কেট-ভলি আর ফুটবল,
সন্ধ্যায় স্টাডিতে, দল বেঁধে ল্যাব এ চল,
ডিনারের পর পর ঠিক নয়টা পঞ্চাশে―
হুড়াহুড়ি হুইসেল, চল সব ডর্মের উদ্দেশে।

আবার দিবস শেষ
স্মৃতি আর মূর্ছনার রেশ।
ডর্মের জোনে বসে,
প্ল্যান প্রোগ্রাম কষে;
যার যার রুমে যাও,
বিদায়? দেখা হবে, এটা ফাও!
আবার বারো টার ঠিক পরে
দেখা হবে একশো এক নম্বর ঘরে ।।

[[কিংশুক২০১৮মে২৩ব্র্যাক,সাভার০৫৩৩]]

পদটীকা:
আরএস ৪৮ এ বসে এই কবিতা/ছড়া লেখার সময় কবি মোটেও আনন্দিত ছিলেন না। হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া সবাইকেই কবির বিরক্ত লাগতো। আরএস জীবন তার কাছে দুর্বিষহ। এখানে তার মন মোটেই ভালো নাই। দুই তিন বার কাউন্সিলর এর কাছে যাবার ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয়েছে। বেচারা মনোবিজ্ঞানীর নিজের মনে অবস্থা ভালো না, নিকট আত্মীয় মারা গেছেন। মনমরা মনোবিজ্ঞানীরা পক্ষে কি কবির মন ভালো করে সম্ভব?

ফিরুনী

ফিরুনী
৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲
প্রতিটি ব্যস্ত রাত্রে
অথবা পরিশ্রান্ত সূর্যাস্তে
ক্লান্ত সূর্য, হেলে পরা বিকাল বেলায়
কর্মযজ্ঞের উত্তপ্ত দুপুরে
আবার নব প্রভাতের হলদে আলিঙ্গনে
এবং আধার বিদারী আলোর ভোরে
মাঝরাত্তিরে--
অপেক্ষা করি তোমার কণ্ঠস্বরের
যে স্বরে মেশানো থাকে নরম নীলচে আদর
যে আদরে আমি অতলপুরে হারিয়ে যাই
যে আদরে আমি ফিরি কঠিন বাস্তবতায়
সে আদরেই আমার বাস, লুপে ঘোরা শ্বাস
আর আমার বিশ্বাস-
তুমি তোমার কোমল ভালোবাসা নিয়ে
জাজ অথবা মেলোডি তে গীত গেয়ে
বেহালার মূর্ছনায়
ফিরে আসবে অগোচরে
এক এলোমেলো অগোছালো উস্কোখুস্ক
অলস আর কিছু মনে না রাখতে পারা
পাগল-দর্র্শন বালকের হৃদয় কুঠুরিতে
তোমার হৃদয়খানি সযতনে তুলে রাখতে।

আমি প্রতি রাত থেকে রাত পর্যন্ত
প্রতিটি কর্ম বিরতিতে
চায়ের ধোঁয়ার সাথে
একাকিত্বে অথবা লোকারণ্যএ
অপেক্ষা করি।

[[২০১৭মে১৯শাহজাহানপুর,ঢাকা১৩৩৮]]

Moment

Imagine no one around us 
Only dew drops on the grass 
Sitting on a stone chair 
Nothing but crickets to hear 
We both are face to face 
Relaxed and with peace 
Guarded by a big banyan tree 
We're ready and we're free 
Sky with millions of stars 
Gentle breeze love admires 
No talk and a little walk 
Low toned songs of folk 
With fragrances of a dove 
What it is but love? 

[[Kingshuk2018May17BRACU,savar0305]]

খণ্ডিত বাঁশের দীর্ঘশ্বাস: ত্রিশব্দিক কাব্য

বিকেলের ক্লান্ত পাহাড়ে,
কনে-দেখা হলদে আলোতে
উল্লাসিত উজ্জ্বল চেহারায়,
প্রাণ সঞ্চারণী সুরব্যঞ্জনায়,
সুন্দরীদের কোলাহলে, ভিড়ে,
খুঁজেছি শুধুই তোমাকে ।

সূর্যটা মিলিয়ে গেছে
নীল পাহাড়ের আড়ে,
লাল-কমলা দিগন্তরেখায়,
আনন্দ আধার স্নিগ্ধতায়,
প্রতিটি তরুণীর অবয়বে,
খুঁজেছি শুধুই তোমাকে ।

জোছনায় অম্লান রজনীতে
তারার মেলায়, ফানুসে,
পায়ের তলায় মেঘ-ছায়ায়,
অগ্নুৎসবের আধারী আলোয়,
প্রত্যেক ঝাপসা নারীমূর্তিতে
খুঁজেছি শুধুই তোমাকে।


{{কিংশুক২০১৮জানুয়ারি০৬শাহজাহানপুর০৩৪৯}}


অশ্রুতে ক্ষমা চাই

কাঁদিতে কাঁদিতে সুকান্তের মতো চিৎকার করে বলিতে ইচ্ছা করে,
"এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"

প্রিয় প্রেয়সী, প্রিয় সহোদরা, ও আমার প্রিয় ভগিনী,
ক্ষমা করিস মাগো তুই ক্ষমা করিস এই
প্রেমিককে, সহোদররে, ভীরু কাপুরুষ ভাইটারে ।
ও আমার গর্ভধারিনী, মাগো,
দেখেনিও, তোমার ছেলেটাও একদিন মানুষ হবে।

সেদিন উপ্রে ফেলা হবে কুৎসিত সব লোলুপ চোখগুলোকে
সেদিন পিষে ফেলা হবে বেজন্মা সব নোংরা হাটগুলোকে
সেদিন বাংলার মাটি হবে রঞ্জিত পিশাচের লাল অশুভ রক্তে

সেদিন আমার বোন, আমার কন্যা
        বেণী দোলাতে দোলাতে বাড়ি ফিরবে নির্ভয়ে
সেদিন আমার প্রিয়তমাও মিছিলে যাবে
        সেজেগুজে, কপালে লাল টিপ পরে, অসংশয়ে
সেদিন আমার বান্ধবীও পাবলিক বাসে বসবে
        মধ্যবয়সী অপরিচিত পুরুষের পাশে আয়েশে

হে ভুবনের নারী,
  হে জননী,
    হে বধুয়া,
      হে স্বসা,
সেদিন ক্ষমা করবে আমাকে?

[[কিংশুক২০১৮মার্চ৮শাহজাহানপুর,ঢাকা১৩৮]]

একদিন প্রেম হবে

চৈত্রের শেষে
 বৈকালীন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে
আসমানী শাড়িতে
একজন  রূপবতী একদিন হয়তো আসবে―
আমার পাশে বসে
সিগারেট জ্বালিয়ে
কাঁধে হাত ফেলে
চোখে চোখ রেখে
কিন্নর কণ্ঠে জিজ্ঞাস করবে,
কেমন আছো কিংশুক?

আমাদের দুজনকে গ্রাস করবে ধোঁয়া
আর চায়ের লিকারের গাঢ় রং
আমরা হয়তো সম্পূর্ণ বিকাল পার করবো
কিন্তু সেই কাল সংক্ষিপ্ত মনে হবে খুব
পৃথিবীর সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে
এরকম শত শত বিকালে আর সন্ধ্যায়।

সবাই শঙ্কিত হবে
কিন্তু আমাদের মনে থাকবে না একবিন্দু সংশয়
কাল পাত্র স্থান বিবেচনা করা হবে না কখনো
সুমধুর স্বরে ভুবনভোলানো গান হবে
খসখসে ভাঙা কণ্ঠে উচ্চারিত হবে
প্রিয় কবিতার শব্দগুলো

দেখো,
তোমরা দেখে নিও,
একজন সুন্দরী রমণীর সাথে
যার হৃদয় পরিপূর্ণ সাহসে
সেরকম এক বুদ্ধিমতী মেয়ের সাথে
আমার প্রেম হবে।

[[২০১৮ফেব্রুয়ারি২৫শাহজাহানপুর,ঢাকা০২৫৮]]


প্রেমিক হতে গেলে – রুদ্র গোস্বামী - আবৃতিঃ কিংশুক

প্রেমিক হতে গেলে – রুদ্র গোস্বামী - আবৃতিঃ কিংশুক





ওই যে ছেলেটাকে দেখছ, পছন্দ মতো ফুল ফুটল না বলে
মাটি থেকে উপড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলো গাছটাকে ?
ছেলেটার ভীষণ জেদ , ও কখনও প্রেমিক হতে পারবে না ।
এই তো সেদিন কাঁচের জানালা দিয়ে রোদ ঢুকছিল বলে
কাঁচওয়ালার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কী বকা !
কাঁচওয়ালাতো থ’ !
সাদা কাঁচে রোদ ঢুকবে না এমন আবার হয় !
ছেলেটার খুব জেদ, ও শুধু দেখে আর চেনে
বুঝতে জানে না ।
প্রেমিক হতে গেলে ঋতু বুঝতে হয়
যেমন কোন ঋতুটার বুক ভরতি বিষ
কোন ঋতুটা ভীষণ একা একা, কোন ঋতুটা প্লাবন
কোন ঋতুতে খুব কৃষ্ণচূড়া ফোটে
ছেলেটা ঋতুই জানে না
ও শুধু দেখে আর চেনে, বুঝতে জানে না ।
ছেলেটা কখনো প্রেমিক হতে পারবে না
প্রেমিক হতে গেলে গাছ হতে হয় ।
ছায়ার মতো শান্ত হতে হয় ।
বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হয় ।
জেদি মানুষেরা কখনও গাছ হতে পছন্দ করে না ।
তারা শুধু আকাশ হতে চায় ।


কবিতাঃ প্রেমিক হতে গেলে 
কবিঃ রুদ্র গোস্বামী 
বইঃ তবুও বৃষ্টি নামুক
আবৃতিঃ কিংশুক

বৃষ্টি ভেজা নীলপদ্মগুলো

তুমি আর আমি,হেঁটে চলেছি
পিচঢালা ঝকঝকে কোন এক নগরীও রাস্তায়
গাছগুলো দুপাশ থেকে নুয়ে পরেছে, যেন ছইতোলা নৌকা
এক পশলা রুমঝুম রুমঝুম বৃষ্টি আর মলিন মধ্যাহ্নের রোদ
অতি উজ্জ্বল করেছে সবুজকে, তোমাকে, আমাকে।

আমরা দাঁড়িয়েছি একটা বড় গাছের নিচে,
গাঢ় সবুজে ছোপ ছোপ ছোপ লাল ধরে রেখেছে মৃত মশাল
লাভার লাল রঙ যেন কবিতার ছলে গাছের বুকে মেখেছে আর্টিস্ট
সেই স্নিগ্ধ রঙ বৃষ্টিজলে ভিজে আমাদের শরীর স্পর্শ করছে
তুমি সেই ফুল মারিয়ে ছেলেমানুষি করছো,
আমি তোমাকে অবিরত বারন করছি সম্পূর্ণ প্রশ্রয়ে

প্রকৃতির তালে আমরা ক্রমশ একে-অন্যের নিকটে চলে আসছি
আস্তে আস্তে বাতাস বাড়ছে, তোমার খোলা চুল একটু একটু উড়ে বেড়াবার চেষ্টা করছে,
তার সাথে পাল্লা দিয়েছে আমার পাঞ্জাবি আর তোমার শাড়ির আঁচল
যখন আমাদের মধ্যে কোন মধ্যবর্তী স্থান বলে কিছু নেই
যখন তোমার শরীর আমার শরীরে মিশে যেতে প্রস্তুত
তখনও তুমি আর আমি অপলক তাকিয়ে আছি দুজনের দিকে

হঠাৎ গর্জে উঠলো আকাশ, মুশলধারে শুরু হল বর্ষন;
তোমার-আমার গাল বেয়ে অশ্রুজলের মত চুইয়ে পরতে শুরু করলো বৃষ্টিজল।
আমারা আলাদা হয়ে গেলাম ছিটকে পরার মত করে।

আজও আমরা একই শহরে থাকি
আজও ঘন বরষায় সেই রাস্তা থাকে
শুধু তোমার আর আমার দূরত্ব অনন্ত নক্ষত্রবীথির দূরত্বের চাইতেও বাড়তে থাকে
রুমঝুম রুমঝুম বৃষ্টির সাথে আজ যুক্ত হয়েছে অতি দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস।


[[কিংশুক২০১৭জুলাই০২শাহজাহানপুর,ঢাকা২৩১০]]


ভাঙচুর

সাদামাটা কাঁচা হাতে লেখা বাংলা কবিতায়
তার মন তো গলে নি হায়
স্প্যানিশ গিটারে বিদেশি ভাষায়
তার প্রেম হাবুডুবু খায়
তাই মাটির ময়না কাগজের গয়না ছুঁড়ে ফেলে
সে মূর্ছা যায়, আদিখ্যেতা রঙিন মিথ্যা
দামি গাড়ির দরজায়, হায়
সত্য গোপন জেনেও অবুঝ খুকি,
সিগারেটের ধোয়ায় হুইস্কিতে হাত বাড়ায়
রঙিন ভুবন রঙিন শহর
বাঁধনহারা অহমিকায় ফেমিনিজম অট্টালিকা
মিথ্যা তবু সুখ ছড়ায়।
বড়লোকি, নাটের খুকি
মধ্যরাতে প্রেম বাড়ায়, পরিণতি একটু বাকি
বুজলো সে কি চোখের ভাষা, ভালোবাসা
কাপড় খোলায়।
দুদিন পরে চোঁখের জলে কাজল কালো মিশে যায়
মিথ্যে স্বপ্নের বাবুই বাসা
টুকটুকে লাল গাল বেয়ে নেমে আসা
ভালোবাসার খেসারতের আঁকাবাঁকা দাগগুলায়
প্রশ্নবিদ্ধ করুন হৃদয় আবার কাহার পানে চায়?


[[কিংশুক২০১৭জুন২২শাহজাহানপুর,ঢাকা৬৩১]]



ক্যাম্পফায়ারের আগুন

পড়ন্ত বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে
যখন তেজহীন সূর্যিটা ডুবে যাবে,
হালকা আলো আর অনেকটা অন্ধকার
তখন গায়ে মেখে ক্যাম্পফায়ার জ্বালাবো।
একপাশে টাঙানো থাকবে টেন্ট, বেশ ছোট,
তাতে কোনোরকম জড়িয়ে মুড়িয়ে দুজন শোয়া যায়।
আর আরেকপাশে শুধুই জল, বিস্তৃত মহাসাগর অথবা বিশাল নদী,
যেখানে সমস্ত দুঃখ কষ্ট বেদনা অভিমান ক্রোধ রাগ অপমান জলাঞ্জলি দেয়া যায়।
আকাশে থাকবে অনেকগুলো তারা, স্পষ্ট এবং জ্বলজ্বলে,
যখন আঁধার কালো রাত ভয় দেখাবে, তখন অভয় দেবে ওরা।
বাতাস বইবে প্রচুর, দুষ্টু খেয়ালি বাতাস, তুমি বলতে,
যেন খেলা করছে আর তা থৈ ধীন তা নেচে চলেছে।
লাল আগুনের আভা তোমার গালে আদর দিবে,
আর আমি চেয়ে থাকবো তোমার মায়াময় মুখের দিকে।
জ্বলতে থাকা আগুনে তোমার গল্প দেখা যাবে,
আর আমি শুনতে থাকবো মিষ্টি হাসির শব্দ, কখনো কণ্ঠস্বর, সংগীতে অথবা কবিতায়।
যখন ভাটায় ভেসে যাওয়া মানবিক দুঃখ, সুখ হয়ে জোয়ারে ভিড়বে
যখন তারাগুলো ছুটে বেড়াবে সমস্ত আকাশে
যখন বাতাস উন্মাদনায় আগুনকে উস্কে দেবে
তখন একখানা প্রেম রচিত হবে, তোমায় আর আমার।
ক্যাম্পের সেই ক্ষণে,
প্রচন্ড আবেগ আর ভালোবাসা নিয়ে
আমি যদি তোমাকে নীলপদ্ম নিবেদন করি?

[কিংশুক২০১৭মে৩০শাহজাহানপুর,ঢাকা০২৩০]


পরাজয় তোমার নয় ~~ কিংশুক

বালক, তুমি কি হেরে যাচ্ছ?
তোমাকে প্রস্তুত করা হয়েছে জেতার জন্য
তোমার প্রত্যেকটি রক্ত বিন্দুকে শানিত করা হয়েছে
তোমার অন্তরকে অমানুষ করা হয়েছে
যেন তুমি পিছুটানের ভয়ে ফিরে না আসো আবার
স্টিমারের সাথে পাল্লা দিয়ে সাঁতার অথবা
ট্রামের সাথে দৌঁড়। তোমার হাড় উত্তপ্ত
কামারের আগুনে লাল হওয়া।
তোমার প্রত্যেক নিশ্বাস
ট্রেনের নির্গত ধোঁয়ার মতো ভারী। 

বালক, তুমি হেরে যেতে পারো না।
তোমার জন্য অপেক্ষা করছে শুধুই বিজয়।
শুধু তুমি হাল ছেড়ো না।

বালক, তুমি উঠে দাঁড়াও।
তুমি আরেকবার চেষ্টা কর।
তুমি পারবে, সত্যি।
কিংশুক২০১৬অক্টোবর১৯শাহজাহাপুর,ঢাকা০৪৩৯


তবু মৃত্যু দেখিনি

প্রবীণে ডাকিয়া কহে নবিনেরে,
"দেখেছো কি মৃত্যু নিজ আখরে?"
নবীন যুবক চাহে অভিজ্ঞ প্রবীণেতে, 
                              আর চাহে নির্লিপ্ত নীলাকাশে 
নিজ মনে বারেক হাসিয়া সে ভাবে, 'দেখেছি তো বটে'
                                                    'কতবার দেখেছি যে ,
                                                    তাহা যদি জানিতে'

অস্ফুট ক্ষীণস্বরে কয়ে যায় খোকা

    দেখেছি মৃত্যু 
                   স্বপ্ন সিক্ত চোখের মৃত্যু
                   বহুক্ষণে তিলে তিলে গড়া ভালোবাসার মৃত্যু
                   আদরের ছোট্ট বিড়ালের মৃত্যু
    আর        এক প্রানবন্ত নিজের মৃত্যু

অতঃপর ফের প্রবীণের চোখে চোখ রাখিয়া 

খোকা মৃদু হাসিয়া দৃপ্ত কণ্ঠে কহে,
                                                      "আমি মৃত্যু দেখিনি"

[[কিংশুক২০১৬সেপ্টেম্বর০৬শাহজাহানপুর,ঢাকা১৬২৩]]

'মেথ'-মস্তকের মৃত্যু

কুয়াশায় ভাসে না হতাশা
ধুম্রজালেই তাই যত আশা
কাষ্ঠখণ্ডের অগ্নিগ্রাস
আর আমার দীর্ঘশ্বাস

নোনা জল গড়ায় পাথরে
যে পাথরের বুকে মৃগের আতর
রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার কিংশুকে
কষাঘাত আনে হিমালয়ার বুকে

তবু সে তো পারাবার পবনে
মৃত্যুকে খুঁজে পায় আপনে
শুভ রাত্রির মৃত্যু হয়
নতুন সূর্যের অপেক্ষায়

'মেথ'-নৃত্যে কেবল
স্বপ্নের মৃত্যু ছোবল


[[Kingshuk2016july14shahjahanpur0436]]

ঠাকরূণ বন্দনা

ঠাকরূণ, তুই বুদ্ধিমতি অতি;
ম বলতে বুঝিস আমার মতি।
কেবল বুঝলি না তুই --
তোর চক্ষুতারায় আমার দৃষ্টিপাত।।

ঠাকরূণ, তোর বিম্বে আমার বাস,
গাছের ছায়ায় গভীর দীর্ঘশ্বাস--
জানলি না তোর ভাঁজে,
আমার কল্য-কাব্য সাজে ।।

ঠাকরূণ, তুই বুদ্ধিমতি অতি;
ম বলতে বুঝিস আমার মতি।

ঠাকরূণ, তুই চাইলি আমার পানে
নিরব নিধি, বক্ষ-ওষ্ঠ-মনে
দেখলি না তুই ভালোবাসা
সত্যাবতির পরাশরের আশা

ঠাকরূণ, তুই বুদ্ধিমতি অতি;
ম বলতে বুঝিস আমার মতি।
তবু বুঝলি না তুই--
আমার জনমকার্য স্তুতি ।।

ঠাকরূণ, তুই বুদ্ধিমতি অতি;
ম বলতে বুঝিস আমার মতি।

সুর ব্যাঞ্জনা

আমার পৃথিবীর চিরচেনা আপন কিছু সুর,
যে সুর আমার কানে ঝঙ্কার তুলেছিলো নিদারুন প্রলভনে,
যে সুরের কাছে পরাজিত হয়েছিনু তীব্র সুখানুভবে
সে সুর আর ঝঙ্কার তোলে না আমাতে;
মৃয়মান সে সুর চলে যায় বহুদূর, দূর থেকে দূর, আরো দূর।

দিশেহারা কবি শুধু দিঘির ধারে বসে থাকে বটবৃক্ষের ছায়ায়
সে শুনতে পায় সেই মৃত সুরের প্রতিধ্বনি, জলের ক্লান্ত ধারায়।

হঠাত কোথা থেকে ভেসে আসে আরেক সুর, ক্রমশ স্পষ্ট;
কবি ফিরে দেখে তীব্র আশায়, সুর তবে ফিরে এলো ধরায়?
নতুন সুরের ধ্বনি পুরনের কাছে নিয়ে যায় কবির হৃদয়।
সেদিনের পুরন সুর আর আজিকার নব ঝঙ্কার আর কবির হৃদয়স্পন্দন,
মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় কোন এক বসন্তের লিলুয়া বাতাসে।

আজ কবির মৃত্যু হয়েছে,
নতুন সুর মিলিয়া গিয়াছে পুরাতনের সাথে।

সুখে থাকুক সব সুর ভুবনের বাতাসে
ক্ষনে এথায় ক্ষনে সেথায়
অনির্দিষ্টের দিকে খুঁজে খুঁজে একান্ত আশ্রয়।

[[কিংশুক২০১৬জুন১০মগবাজার,ঢাকা১৩০০]] 

দ্বিশাব্দিক দ্বিত্বার্থ কাব্য

অহর্নিশি অহমিকা;
দেয়াল জুড়ে
রঙ্গিন পোর্ট্রেট,
ছবি আঁকা ।

মুমূর্ষু মানবতা,
নিজের কাছে
ভেক-ভঙ্গুর স্বকীয়তা,
অসত্যের সভ্যতা।

মোড়কের দর
কষাকষি, পণ্যের
নাই ভর।
আলোর শহর।

ভালোবেসে আকর্ষণ
অকারণে, অযথাই
বিকর্ষণ অসময়ে;
মায়াজাল ভেলকি-ভেলা।

তবুও পিছুটান,
ইতিহাস তবু
রাখেনা সম্মান;
বুড়ো-বৃক্ষের বার্ধক্য।

বিষধর নাগিনীর
অশুভ চুম্বন;
নতুন ঠিকানা
আমার, অন্ধকার।

[[কিংশুক২০১৬মে১০শান্তিবাগ,ঢাকা০৭৪০]]

কর্টানা

মধ্যরাতের পরে,
যখন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াতে,
মা থাকে না,
বোন থাকে না,

'সে'ও থাকে না, 
কেউ আসে না...

তখন আমি,বাচ্চা বিড়াল,
মিউ মিউ মিউ ঘুম আসে না।

তখন আমি ডাকপাড়ি-
'কর্টানা' তুই ঘুম পাড়াবি?

একটুখানি আদূরে সুরে।
কর্টানা দেয় ঘুম পাড়িয়ে।


[[কিংশুক২০১৬মার্চ২৬শান্তিবাগ,ঢাকা০০৫৫]]



কর্টানা - Cortana -- Microsoft এর বানানো একটা প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর ভার্চুয়াল সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে।

The Story of My Death


Friday night
March four
Sitting behind a Watch Ball
To see my destiny 

Its about to two at night 
Silence is disturbed 
Only for dog's barking 
And watchmen's whistle 

In deep dark
All alone me 
Sitting behind a Watch Ball
To see my destiny 

My past seventeen years
My next beautiful morning 
Each and every moments 
All of me 

I can see the slides 
My own real timeline 
How much time gone, can't tell
I can see my mirror image
In the mysterious Watch Ball

Its been turned dark 
In very low intense of light 
I hardly can see a shadow
Of a young man like me
Hanging

It only makes sense 
When I be ... 

Suddenly
Watch Ball brighten up 
Some words have been cleared out
"Yes, This is your destiny,
Result of past seventeen years"

I've tied a rope with the ceiling 
A nice loop has been ready
I'm all prepared 
To make my destiny true

For the very last time 
I've looked at myself
My mom, my dad
My little sister
My dearest persons 
Crystal clear sharp faces 
I've just recalled all

I've looked at the Watch Ball
And begin hanging 
My clocked just stopped

I saw the Watch Ball
Saying 
"Try Again"



[[Kingshuk2016March04Shantibag,Dhaka0140]]