ডায়েরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

চলো একদিন

চলো যাই সেখানে,
নীলিমার নীল রং 
যেখানে কেড়ে নেয় ঘন সবুজ,
যেখানে সবুজ ছাপিয়ে 
দিগন্ত টেনে দেয় কমলা আভা।

চলো যাই সেখানে,
স্বচ্ছ জলের স্থবিরতা 
যেখানে ঠাঁই পায় না জঙলী কুহুতানে।
যেখানে স্নান সেরে মাছগুলোও
মিশে যায় কালচে সবুজের গায়ে।

চলো যাই সেখানে,
চায়ের পাতার রঙে 
যেখানে শরীর ভেজায় মানুষ।
যেখানে নদী প্রবাহিত
পাহাড়ের গা বেয়ে সমতলের দিকে। 

চল একদিন সবাই 
মিলে মিশে একাকার হই
প্রকৃতির নানা রঙে, বহু ঢঙে। 
চলো একদিন আবার
খুঁজে ফিরি নিজেকে
ভেসে বেড়াই বৈরাজ্ঞের আনন্দে। 


[[কিংশুক২০১৮আগস্ট১১শাহজাহানপুর,ঢাকা০৩৩৫]]



সাদাকালো ধারকী

দেহখানি অনাবাদি টলমলে 
আঁধারের আলোকে অলকের দিক ভ্রম 
জোনাকির ভ্রমণেতে কিবা দেখি চোখমেলে 
ছায়াখানা দুর্বল চঞ্চল প্রেম 

প্রদীপের দিয়াগুলি করিতেছে নৃত্য 
কেবা তুমি? কেবা আমি? কাহাদের ভৃত্য?
পাহাড়ের গাল বেয়ে কপোলের অশ্রু আল্পনা 
নেমে আসে সাগরের নোনা জলে 
                   স্নানরত অমৃতাংশুর মৃত্যুর কল্পনা 

মোম-গলা-আলোতে আবছায়া-অশরীরীর অবয়ব 
মানুষের মানসে – চেত-চিন্তন, অধীরতা,
ত্রাস সঞ্চারি অভিশঙ্কা আর উদ্বেগ বারতা 
মননের মনে কেন এত অভিশঁকা? – বিভাভর শ্বরতুল অনুভব
মিথ্যে সত্যে মিশে কেন সত্য-মিথ্যা ঠিক-ভুলদের কলরব?

দিবসের ফুসরতে ব্যস্ত জীবনেতে 
নেমে আসে সন্ধ্যা এক ঘর হলদেটে আলোতে 
প্রশ্নের সম্মুখে ধুম্রের কল্কিতে 
কুহকের আগুনেতে ছারখার সংগীতে 
গল্পের ঝগড়াটা কবিতায় রূপ নিতে নিতে 
মরে মরাগুলি উদ্ভাবনে রয়েছে যে উত্তর উত্তরেতে 
নিয়তই নিয়তির অপেক্ষাতে। 

[[কিংশুক২০১৮জুলাই৩১ব্র্যাকইউ,সাভার০৩৫৬]]

উৎসর্গ: রজনীর একশো একে বিন্দু টর্চের আলোতে বসে আড্ডা দেয়া কতিপয় দিশেহারা পাগলাটে সাদাকালো মানুষকে। 

শব্দার্থ:
অনাবাদি ― স্থবিরোতাহীন, অমীমাংসিত
অলক ― মাথার চুল বা খোঁপা
অমৃতাংশু ― চাঁদ
মানস- মন
চেত - ভয়
অভিশঙ্কা -  ভয়ের সংশয়
মনন - মন, চিন্তা
অভিশঁকা ― আশঙ্কা , চেতনা
বিভাভর ― বিচ্ছেদ, ভাগ করা
শ্বরতুল্য ― ঐশ্বরিক



আটচল্লিশে আঠারোটি রজনীগন্ধা

বারো টার ঠিক পরে
একশো এক নম্বর ঘরে,
এক কাপ কফি হাতে
ডর্মমেটদের সাথে ―
কখনো দর্শন কখনো গণিতে
কখনো বা ঝালমুড়িতে,
নিশাচর আড্ডা জমে ওঠে
রজনীগন্ধার জ্বলন্ত ঠোঁটে ।

যুক্তির ডালপালা
খুশি খুশি হাসিদের মেলা,
ডুবে যাই 'ডেভ'– 'হামে'
গ্রুপ স্টাডির নামে।
বারান্দাতে রেহান স্যার
এত রাতে আর কাজ নাই তার?
প্রশ্ন জাগে মনের ভেতর ―
আরএস জীবন মানবেতর?

আড়াইটা বেজে গেলে
ডর্ম টিউটর নীচে এলে,
দল বেঁধে ভাই ভাই
একসাথে সেহরিতে যাই।
শেষ রাতের আধারে
ঘুম ঘুম চোখ বাড়ে;
সকালে ক্লাস সবার
ঘুমাও, যদি মিস হয় আবার।

ক্রিং প্রিং আলার্মের খটোমটো
ওঠো ওঠো অন্বেষার ক্লাসে ছোটো,
ক্লাস শেষে সার্কেল, সার্কেল গড়ে উঠে,
কেউ কেউ ব্যস্ত; আনন্দপুরে সুর ছোটে।
বিকালে তো বাস্কেট-ভলি আর ফুটবল,
সন্ধ্যায় স্টাডিতে, দল বেঁধে ল্যাব এ চল,
ডিনারের পর পর ঠিক নয়টা পঞ্চাশে―
হুড়াহুড়ি হুইসেল, চল সব ডর্মের উদ্দেশে।

আবার দিবস শেষ
স্মৃতি আর মূর্ছনার রেশ।
ডর্মের জোনে বসে,
প্ল্যান প্রোগ্রাম কষে;
যার যার রুমে যাও,
বিদায়? দেখা হবে, এটা ফাও!
আবার বারো টার ঠিক পরে
দেখা হবে একশো এক নম্বর ঘরে ।।

[[কিংশুক২০১৮মে২৩ব্র্যাক,সাভার০৫৩৩]]

পদটীকা:
আরএস ৪৮ এ বসে এই কবিতা/ছড়া লেখার সময় কবি মোটেও আনন্দিত ছিলেন না। হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া সবাইকেই কবির বিরক্ত লাগতো। আরএস জীবন তার কাছে দুর্বিষহ। এখানে তার মন মোটেই ভালো নাই। দুই তিন বার কাউন্সিলর এর কাছে যাবার ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয়েছে। বেচারা মনোবিজ্ঞানীর নিজের মনে অবস্থা ভালো না, নিকট আত্মীয় মারা গেছেন। মনমরা মনোবিজ্ঞানীরা পক্ষে কি কবির মন ভালো করে সম্ভব?

ফিরুনী

ফিরুনী
৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲৲
প্রতিটি ব্যস্ত রাত্রে
অথবা পরিশ্রান্ত সূর্যাস্তে
ক্লান্ত সূর্য, হেলে পরা বিকাল বেলায়
কর্মযজ্ঞের উত্তপ্ত দুপুরে
আবার নব প্রভাতের হলদে আলিঙ্গনে
এবং আধার বিদারী আলোর ভোরে
মাঝরাত্তিরে--
অপেক্ষা করি তোমার কণ্ঠস্বরের
যে স্বরে মেশানো থাকে নরম নীলচে আদর
যে আদরে আমি অতলপুরে হারিয়ে যাই
যে আদরে আমি ফিরি কঠিন বাস্তবতায়
সে আদরেই আমার বাস, লুপে ঘোরা শ্বাস
আর আমার বিশ্বাস-
তুমি তোমার কোমল ভালোবাসা নিয়ে
জাজ অথবা মেলোডি তে গীত গেয়ে
বেহালার মূর্ছনায়
ফিরে আসবে অগোচরে
এক এলোমেলো অগোছালো উস্কোখুস্ক
অলস আর কিছু মনে না রাখতে পারা
পাগল-দর্র্শন বালকের হৃদয় কুঠুরিতে
তোমার হৃদয়খানি সযতনে তুলে রাখতে।

আমি প্রতি রাত থেকে রাত পর্যন্ত
প্রতিটি কর্ম বিরতিতে
চায়ের ধোঁয়ার সাথে
একাকিত্বে অথবা লোকারণ্যএ
অপেক্ষা করি।

[[২০১৭মে১৯শাহজাহানপুর,ঢাকা১৩৩৮]]

খণ্ডিত বাঁশের দীর্ঘশ্বাস: ত্রিশব্দিক কাব্য

বিকেলের ক্লান্ত পাহাড়ে,
কনে-দেখা হলদে আলোতে
উল্লাসিত উজ্জ্বল চেহারায়,
প্রাণ সঞ্চারণী সুরব্যঞ্জনায়,
সুন্দরীদের কোলাহলে, ভিড়ে,
খুঁজেছি শুধুই তোমাকে ।

সূর্যটা মিলিয়ে গেছে
নীল পাহাড়ের আড়ে,
লাল-কমলা দিগন্তরেখায়,
আনন্দ আধার স্নিগ্ধতায়,
প্রতিটি তরুণীর অবয়বে,
খুঁজেছি শুধুই তোমাকে ।

জোছনায় অম্লান রজনীতে
তারার মেলায়, ফানুসে,
পায়ের তলায় মেঘ-ছায়ায়,
অগ্নুৎসবের আধারী আলোয়,
প্রত্যেক ঝাপসা নারীমূর্তিতে
খুঁজেছি শুধুই তোমাকে।


{{কিংশুক২০১৮জানুয়ারি০৬শাহজাহানপুর০৩৪৯}}


ইদানিং ... (ডায়েরী)


কোনো এক ছুটির দিনে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম। আম্মু এসে আমার রুমে বসলো। কিছু বলছে না, চুপচাপ বসে আছে। মাঝে মাঝে আম্মু এরকম করে।
আমি কিছুক্ষন বাদে জিজ্ঞাস করলাম আম্মুকে, কিছু বলবে কিনা। আম্মু বললো, এমনি এসেছে। কিন্তু কথা বলা শুরু করলো। হালকা ধরণের কথা বার্তা। হঠাৎ বেশিরভাগ কোথাই আমাকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকলো। আমি যে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছি, সমানে কোর্স ড্রপ করে যাচ্ছি, সেটা কি আদৌ ঠিক হচ্ছে কিনা। সিঙ্গাপুরের কম্পেটিশনে যেতে পারিনি বলে মনে খারপ কিনা। যেই উদীয়মান গেম কোম্পানিতে (Ginduce) জয়েন করেছি সেটা কতটা যৌক্তিক (আম্মুর মতে রোবটিক্স বা সফটওয়ার নিয়ে কাজ করা বেশি ভালো। এতে দেশ দশের লাভ বেশি। গেম বানানো ঠিকঠাক, তবে ওগুলোর তুলনায় নস্যি। এই বয়সে এত আধ্যাতিক বেপার চিন্তা করলে হবে? তাই আমি তেমন মাথা ঘামাচ্ছি না)। ইদানিং কেন আমার মেজাজ খিটখিটে থাকে। যেই জামাকাপড়ের ব্যবসা (আসলে টিশার্ট প্রোডাকশন। নাম Clotheren) করছি সেটা নিয়ে কি করছি। এই রকম অসংখ্য প্রশ্ন করে যাচ্ছে। আমি অনুভূতিহীন ভাবে হু-হা-না-আচ্ছা করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আম্মুর কথা শুনে আমি মোটামোটি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলাম। বলে, ওই মেয়েটা কেমন আছে, তোর সাথে সম্পর্ক ছিল। আমি আমতা আমতা করে বললাম জানি না, তবে ভালো থাকার কথা। আম্মু একটু হতাশ গলায় বললো কনফিউসড কেন, খোঁজ নিই না কেন। আমি শুধু বললাম, ওর বর্তমান বিরক্ত হয়। আম্মু একটু তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি দিয়ে সাংসারিক আলাপ শুরু করলো। কিন্তু আমার মাথায় ঘুরতে থাকলো কিছু শব্দ আর শব্দগুচ্ছ।
'ও চলে গেছে, পড়াশোনা ছেড়ে দিলাম, কম্পেটিশন, কাজ কর্ম, স্কিল, বর্তমান ,ভবিষ্যৎ, আমি ইত্যাদি'
কেন যেন কিছুই ভালো লাগছে না। বন্ধুদের সাথে লজিক নিয়ে ঝগড়া করতে ইচ্ছা করে না। দীর্ঘ বক্তৃতাতে মন নেই। কবিতা ভালো লাগে না, বই পড়তে ইচ্ছে হয় না। ধৈর্য নাই, আকাঙ্খা নাই, মোটিভেশন নাই। ইন্সপিরেশন নাই, ঘুরতে ইচ্ছা করে না, গান শুনি না, সিরিজ দেখি না। না রোবটিক্স না কোনো ল্যাংগুয়েজ বা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, কিচ্ছু ভাল্লাগে না। কাউকে কিছু বলতেও ইচ্ছা করে না। ঘুছিয়ে বলতেও পারি না।
যদি পারতাম। সব কিছু নতুন করে শুরু করতাম। রিস্টার্ট না। বুট মেনু থেকে ফ্রেশ ওএস ইনস্টল এর মত।
ইসসস... যদি সত্যিই সম্ভব হতো।
[[কিংশুক২০১৮মার্চ৯শাহজাহানপুর,ঢাকা৩৩০]]
#ডায়েরি

একদিন প্রেম হবে

চৈত্রের শেষে
 বৈকালীন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে
আসমানী শাড়িতে
একজন  রূপবতী একদিন হয়তো আসবে―
আমার পাশে বসে
সিগারেট জ্বালিয়ে
কাঁধে হাত ফেলে
চোখে চোখ রেখে
কিন্নর কণ্ঠে জিজ্ঞাস করবে,
কেমন আছো কিংশুক?

আমাদের দুজনকে গ্রাস করবে ধোঁয়া
আর চায়ের লিকারের গাঢ় রং
আমরা হয়তো সম্পূর্ণ বিকাল পার করবো
কিন্তু সেই কাল সংক্ষিপ্ত মনে হবে খুব
পৃথিবীর সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে
এরকম শত শত বিকালে আর সন্ধ্যায়।

সবাই শঙ্কিত হবে
কিন্তু আমাদের মনে থাকবে না একবিন্দু সংশয়
কাল পাত্র স্থান বিবেচনা করা হবে না কখনো
সুমধুর স্বরে ভুবনভোলানো গান হবে
খসখসে ভাঙা কণ্ঠে উচ্চারিত হবে
প্রিয় কবিতার শব্দগুলো

দেখো,
তোমরা দেখে নিও,
একজন সুন্দরী রমণীর সাথে
যার হৃদয় পরিপূর্ণ সাহসে
সেরকম এক বুদ্ধিমতী মেয়ের সাথে
আমার প্রেম হবে।

[[২০১৮ফেব্রুয়ারি২৫শাহজাহানপুর,ঢাকা০২৫৮]]


প্রমত্তা

হঠাৎ করেই ওর সাথে আমার বন্ধুত্বটা বাড়তে থাকে। এমন একটা সময়ে আমি ওর প্রতি তীব্র প্রেম অনুভব করি যখন আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক মাঝামাঝি ধরণের। এরকম সম্পর্ক নাকি দীর্ঘদিন টিকে থাকে, ভেঙে যায় দুর্বল আর কঠিন সম্পর্কগুলো। একদিকে যদিও এইটা আশার আলো কিন্তু সেই সময় আমি ধরে নিয়েছিলাম আমাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক।
সে যাই হোক। আমি তাকে বলবো ভেবেছিলাম। কিন্তু একটা ব্যাপার সবসময় মনের মধ্যে ঘুরতো, বলতে বাধা দিত-- সে যদি রাজি না থাকে? তবে তো বন্ধুত্বটা আর থাকবে না।
আমি ওকে বলিনি কখনো। কিন্তু মেয়েরা না অনেক কিছু বোঝে? ও কেন বুঝলো না? নাকি সে বুঝেছিল এবং অপেক্ষা করছিল? অথবা সে চায় নি নতুন সম্পর্ক।
আমি প্রায়ই ওর কথা ভাবি। আর খাটের পিছন থেকে একটা গান বাজতে থাকে,--

"... অন্ধকার ঘরে, কাগজের টুকরো ছিঁড়ে, কেটে যায় আমার সময় ..."

আমি এক ঘন কালবৈশাখীতে ওকে ডেকেছিলাম রেস্তোরাতে। সে অধীর আগ্রহে আমার কথা শুনবে বলে এসেছিল। আমি সেদিনও বলিনি শুধু মৃদু সুরে ভেসে আসা 'Gun N' Roses' এর নভেম্বর রেইনে ভিজেছি।

এখন আষাঢ় মাস, ও হয়তো বৃষ্টিতে ভিজছে, অথবা ...
আমি ঠিক জানি না। শুধু বুঝতে পারছি, দূর থেকে একটা সুর ভেসে আসছে, আমি গভীর ঘুমে নিমজ্জিত হচ্ছি, সুর তা পরিচিত লাগছে, কিন্তু মনে আসছে না, মস্তিষ্ককে গ্রাস করছে ফ্রিজিয়াম।
আমি নিদ্রিত কিন্তু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি,--

" ... পিঞ্জর খুলে দিয়েছি, যা কিছু কথা ছিল ভুলে গিয়েছি,
যা রে যাবি যদি যা, যা রে যাবি যদি যা ... "

[[কিংশুক২০১৭জুন১৭শাহজাহানপুর,ঢাকা১৪৪৮]]

হুমায়ুন আহমেদ এর বানী/উক্তি সমুহ

গুরু হুমায়ুন আহমেদ তার বিভিন্ন বই এ তার নিজের দর্শন সম্পর্কে লিখেছেন, কখনো নিজের কথা হিসেবে কখনো বা তার সৃষ্টি করা কোন ক্যারেক্টার এর মাধ্যমে। মাঝে মাঝে প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ এর সেই সব কথা গুলো পড়তে ভাল লাগে। তাই যতটুকু পেরেছি কালেকশনের চেষ্টা করেছি। প্রিয় পাঠক, আপনাদের কারো কাছে যদি নতুন কিছু থাকলে অবশ্যি জানাবেন কমেন্ট করে।


“ ভাসিয়ে দেবার প্রবণতা প্রকৃতির ভেতর আছে। সে জোছনা দিয়ে ভাসিয়ে দেয়, বৃষ্টি দিয়ে ভাসিয়ে দেয়, তুষারপাত দিয়ে ভাসিয়ে দেয়। আবার প্রবল প্রেম, প্রবল বেদনা দিয়েও তার সৃষ্টজগৎকে ভাসিয়ে দেয় ”

“ যারা সিগারেট খায় তারা যখন অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়ে তখন তাদের সিগারেট ধরাতে ইচ্ছা করে ”

 সব পাখি জোড়ায় জোড়ায় ওড়ে। পক্ষীকুলে শুধুমাত্র চিলকেই নিঃসঙ্গ উড়তে দেখা যায়। নিঃসঙ্গতার আনন্দের সাথে এই পাখিটার হয়তো বা পরিচয় আছে 


 চমৎকার মেয়েগুলি এমন-এমন জায়গায় থাকে যে ইচ্ছা করলেই হুট করে এদের কাছে যাওয়া যায় না। দূর থেকে এদের দেখে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলতে হয় এবং মনে মনে বলতে হয়, আহা, এরা কী সুখেই না আছে 

 অনেকদিন পর মেয়ে বন্ধুরা একত্রিত হলে একটা দারুণ ব্যাপার হয়। আচমকা সবার বয়স কমে যায়। প্রতিনিয়ত মনে হয় বেঁচে থাকাটা কি দারুণ সুখের ব্যাপার 

 

 ভালোবাসা যদি তরল পানির মত কোন বস্তু হত, তাহলে সেই ভালোবাসায় সমস্ত পৃথিবী তলিয়ে যেত। এমন কি হিমালয় পর্বতও 

 

 একজন কাছের মানুষ আরেকজন কাছের মানুষকে তখনি ভয় করে যখন সে তাকে বুঝতে পারে না 

 

 বাঙালি গরমের ভক্ত নরমের যম। একটু নরম দেখলেই উপায় নেই- ঝাঁপ দিয়ে পড়বে। তারা যত ঝাঁপ দেবে পুলিশ তত বিপদে পড়বে। বাঙালি জাতির যত রাগ খাকি পোশাকের দিকে। পুলিশের দিকে ঢিল মারতে পারলে তারা আর কিছু চায় না 

 

 হুট করে প্রেম হয় কনজারভেটিভ ফ্যামিলিগুলোতে। ঐ সব ফ্যামিলির মেয়েরা পুরুষদের সঙ্গে মিশতে পারে না, হঠাৎ যদি সুযোগ ঘটে যায়- তাহলেই বড়শিতে আটকে গেল 

 

 যারা মিথ্যা বলে না তারা খুব বিপদজনক। তারা যখন একটা দুইটা মিথ্যা বলে তখন সেই মিথ্যাকে সত্য হিসাবে ধরা হয়। এক হাজার ভেড়ার পালের মধ্যে একটা নেকড়ে ঢুঁকে পড়ার মতো। একহাজার সত্যির মধ্যে একটা মিথ্যা। সেই মিথ্যা হবে ভয়ংকার মিথ্যা 

 

 আমাদের মধ্যে সম্মান করা এবং অসম্মান করার দুটি প্রবনতাই প্রবলভাবে আছে। কাউকে পায়ের নিচে চেপে ধরতে আমাদের ভালো লাগে, আবার মাথায় নিয়ে নাচানাচি করতেও ভালো লাগে 

 মেয়েদের দুটি জিনিস খুব খারাপ, একটি হচ্ছে সাহস অন্যটি গোয়ার্তমি 

 

 আমি আমার নিজের দেশ নিয়ে অসম্ভব রকম আশাবাদী৷ আমাকে যদি একশোবার জন্মাবার সুযোগ দেয়া হয় আমি একশোবার এই দেশেই জন্মাতে চাইব৷ এই দেশের বৃষ্টিতে ভিজতে চাইব৷ এই দেশের বাঁশবাগানে জোছনা দেখতে চাইব 

 

 বর্তমানটাই সত্যি। অতীত কিছু না, ভবিষ্যৎ তো দূরের ব্যাপার। আমরা বাস করি- অতীতেও না, ভবিষ্যতেও না 

 

 প্রথম শ্রেণীর চামচা হচ্ছে যারা স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে চামচার ভাব ধরে থাকে। আর তৃতীয় শ্রেণীর চামচা হচ্ছে তারাই যাদের জন্মই হয়েছে চামচা হিসোবে 

 সমস্ত জীব-জন্তু ও পশু-পাখির জীবনের বেশীর ভাগ সময় কেটে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে গিয়ে। মানুষের জন্যও এটা সত্যি। আমরাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজি 

 

 মেয়ে জাতটাই হচ্ছে মায়াবতীর জাত। কখন যে এই মেয়েটি মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছে, নিজেই বুঝতে পারেন নি 

 

 মায়ের সঙ্গে মিল আছে এই জাতীয় মেয়ের প্রতি পুরুষেরা প্রচন্ড আকর্ষন বোধ করে 

 

 বিলাই আর পুরুষ মানুষ এই দুই জাতের কোন বিশ্বাস নাই। দুইটাই ছোকছুকানি জাত 

 

 সারা জীবন পাশাপাশি থেকেও এক সময় একজন অন্যজনকে চিনতে পারে না। আবার এমনও হয়, এক পলকের দেখায় একে অন্যকে চিনে ফেলে 

 জীবনে কুসিৎত সব ব্যাপারগুলি সহজভাবে ঘটে যায়। অপরূপ রূপবতী একটা মেয়ে হাসতে হাসতে কঠিন কঠিন কথা বলে 

 জীবনে কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে যার উত্তর কখনও মিলেনা, কিছু কিছু ভুল থাকে যা শোধরানো যায়না, আর কিছু কিছু কষ্ট থাকে যা কাউকে বলা যায়না 

 একজন মানুষকে সত্যিকারভাবে জানার উপায় হচ্ছে তার স্বপ্নটা জানা 

 লাজুক ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ সময়ই মনের কথা বলতে পারেনা। মনের কথা হড়বড় করে বলতে পারে শুধু মাত্র পাগলরাই। পাগলরা মনে হয় সেই কারণেই সুখী। 

 যে সব মানুষের নাক সেনসেটিভ হয় তাদের কান কম সেনসেটিভ হয়। প্রকৃতি একটা বেশী দিলে অন্যটা কমিয়ে দেয়। 

 বাবা-মা’র প্রথম সন্তান হচ্ছে চমৎকার একটি জীবন্ত খেলনা। এই খেলনার সবই ভালো। খেলনা যখন হাসে, বা-মা হাসে। খেলনা যখন কাঁদে বাবা-মা’র মুখ অন্ধকার হয়ে যায়। 

 যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না। 

 ভালবাসার মানুষের সাথে বিয়ে না হওয়াটাই বোধ হয় ভাল। বিয়ে হলে মানুষটা থাকে ভালবাসা থাকে না। আর যদি বিয়ে না হয় তাহলে হয়ত বা ভালবাসাটা থাকে,শুধু মানুষটাই থাকে না। মানুষ এবং ভালবাসা এই দুয়ের মধ্যে ভালবাসাই হয়ত বেশি প্রিয়। 

 কখনো কাউকে অযোগ্য বলে অবহেলা করো না। ভেবে দেখো তুমিও কারো না কারো কাছে অযোগ্য। কেউ কারো যোগ্য নয়, যোগ্য বিবেচনা করে নিতে হয়। 

 যে মানব সন্তান ক্ষুদ্র কামনা জয় করতে পারে সে বৃহৎ কামনাও জয় করতে পারে 

 যদি মন কাঁদে
তুমি চলে এসো, চলে এসো
এক বরষায় 

 ট্রাফিক জ্যামেরও একটা ভাল দিক আছে। এই সময়ে রাস্তা পারাপার করতে পারা যায় 

 মেয়েরা অতি দূরের আত্মীয়কে কাছের মানুষ প্রমাণ করার জন্যে চট করে তুই বলে 

 আলো যেমন চারপাশ আলো করে তোলে একজন পবিত্র মানুষও তার চারপাশ আলো করে তুলবেই 

 ধুমপানও অভ্যাসের ব্যাপার। অভ্যাস না থাকলে সিগারেটের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসবে। আবার যারা অভ্যস্ত তারা পাগল হয়ে থাকে এই ধোঁয়াটার জন্য। 

 মেয়েরা এমনিতেই সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত হয়। পেটে সন্তান থাকা অবস্থায় সন্দেহ রোগ অনেকগুনে বেড়ে যায়। 

 বিলাই আর পুরুষ মানুষ এই দুই জাতের কোন বিশ্বাস নাই। দুইটাই ছোকছুকানি জাত। 

 সময় নেতা তৈরি করে। ঠিক সময়ে ঠিক নেতা এই কারণেই বের হয়ে আসে 

 সব গ্রেটম্যানরাই কোনো না কোনো সময়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম রবি ঠাকুর। 

 সুন্দরী মেয়েদের হাতের লেখা সুন্দর হয়। এটা হল নিপাতনে সিদ্ধ। সুন্দরীরা মনে প্রাণে জানে তারা সুন্দর। তাদের চেষ্টাই থাকে তাদের ঘিরে যা থাকবে সবই সুন্দর হবে। 

 আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমাদের যখন গুছিয়ে কথা বলা দরকার তখন টেলিগ্রাফের ভাষায় কথা বলি। আর যখন সার সংক্ষেপ বলা দরকার তখন পাঁচ শ পৃষ্ঠার উপন্যাস শুরু করি। 

 অল্প বয়সের ভালোবাসা অন্ধ গন্ডারের মত। শুধুই একদিকে যায়। যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, আদর দিয়ে এই গন্ডারকে সামলানো যায় না। 

 রূপবতীদের সব অভদ্রতা ক্ষমা করা যায়। এরা অভদ্র হবে এটাই স্বাভাবিক। এরা ভদ্র হলে অস্বস্তি লাগে। 

 রূপবতীদের সব অভদ্রতা ক্ষমা করা যায়। এরা অভদ্র হবে এটাই স্বাভাবিক। এরা ভদ্র হলে অস্বস্তি লাগে। 

 মানুষ মিথ্যা কথা বলে প্রয়োজনে এবং স্বার্থের কারনে 

 মানুষের সঙ্গে গাছের অনেক মিল আছে। সবচেয়ে বড় মিল হলো, গাছের মত মানুষেরও শিকড় আছে। শিকড় উপড়ে ফেললে গাছের মৃত্যু হয়, মানুষেরও এক ধরনের মৃত্যু হয়। মানুষের নিয়তি হচ্ছে তাকে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মৃত্যুর ভেতর দিয়ে অগ্রসর হতে হয় চুড়ান্ত মৃত্যুর দিকে। 

 মানুষের মনের ভাব কখনোই মুখে প্রতিফলিত হয় না। মুখের ওপর সর্বদা পর্দা থাকে। শুধু মানুষ যখন হাসে তখন পর্দা দূরীভূত হয়। হাস্যরত একজন মানুষের মুখে তার মনের ছায়া দেখা যায়। 

 রুচির রহস্য ক্ষুধায়। যেখানে ক্ষুধা নেই সেখানে রুচিও নেই। 

 সত্য কথাগুলো সব সময় বক্তৃতার মতো শোনায়, মিথ্যাগুলো শোনায় কবিতার মত 

 দরিদ্র পুরুষদের প্রতি মেয়েদের একপ্রকার মায়া জন্মে যায়, আর এই মায়া থেকে জন্মায় ভালোবাসা 

 যে মানুষ নিঃশব্দে হাসে তাহার বিষয়ে খুব সাবধান। দুই ধরনের মানুষ নিঃশব্দে হাসে- অতি উঁচু স্তরের সাধক এবং অতি নিম্নশ্রেণীর পিশাচ চরিত্রের মানুষ 

 মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়ত হবে 

 অতি ভয়ঙ্কর যে গরল তাহাতেও অমৃত মিশ্রিত থাকে। অতি পবিত্র অমৃতে থাকে প্রাণসংহারক গরল। খাদ ছাড়া সোনা হয় না। গরল ছাড়া অমৃতও হয় না। 

 কৌতুহল আমাদের সবারই আছে, কিন্ত কৌতুহল মেটানোর জন্যে প্রয়োজনীয় পরিশ্রমটি আমরা করি না। করতে চাই না। 

 কিছু মানুষ ধরেই নিয়েছে তারা যা ভাবছে তাই ঠিক। তাদের জগতটাই একমাত্র সত্যি জগত। এরা রহস্য খুঁজবে না। এরা স্বপ্ন দেখবে না। 

 পৃথিবীতে আনন্দ এবং দুঃখ সব সময় থাকবে সমান সমান। বিজ্ঞানের ভাষায় আনন্দের সংরক্ষণশীলতা। একজন কেউ চরম আনন্দ পেলে, অন্য জনকে চরম দুঃখ পেতে হবে। 

 বাঙ্গালীকে বেশি প্রশংসা করতে নেই। প্রশংসা করলেই বাঙালি এক লাফে আকাশে উঠে যায়। আকাশে উঠে গেলেও ক্ষতি ছিল না- আকাশ থেকে থুথু ফেলা শুরু করে। 

 গল্প উপন্যাসের নায়ক-নায়িকাদের সুখ-দুঃখে যারা কাতর, তারা সাধারণত নিজেদের সুখ দুঃখের ব্যাপারে উদাসীন হয়। 

 রিকশায় চড়ায় একটা রাজকীয় ব্যাপার আছে। মাথা সামান্য উচু করলেই আকাশ দেখতে দেখতে যাওয়া যায়। 

 সূর্যোদয় দেখাটা অত্যন্ত জরুরী। এই দৃশ্যটি মানুষকে ভাবতে শিখায়। মন বড় করে। 

 আদর্শ মানুষকে কেউ পছন্দ করে না। আদর্শ মানুষ ডিসটিল্ড ওয়াটারের মতো - স্বাদহীন। সমাজ পছন্দ করে অনাদর্শ মানুষকে। যারা ডিসটিল্ড ওয়াটার নয় - কোকাকোলা ও পেপসির মতো মিষ্টি কিন্তু ঝাঁঝালো। 

 যত্ন করে কাঁদানোর জন্য 
খুব আপন মানুষগুলোই যথেষ্ট! 

 চাঁদনী পসর রাতে যেন আমার মরণ হয় 

 একসাথে কখনো সবাইকে সুখী করা সম্ভব না | আপনি কখনই পারবেন না | কাউকে না কাউকে অসন্তুষ্ট রাখতেই হবে | আর তাতেই মনে হয় নিজের গোটা পৃথিবীর একটা প্রান্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায় 

 মায়ের অভিশাপ কখনো সন্তানের গায়ে লাগেনা। দোয়া গায়ে লাগে, অভিশাপ গায়ে লাগেনা। হাঁসের গায়ের পানির মত অভিশাপ ঝরে পড়ে যায়। 

 ব্যবহার করা কপালের টিপটার আঠা নষ্ট হলেও মেয়েরা সেটা যত্ন করে রেখে দেয়।একজোড়া কানের দুলের একটা হারিয়ে গেলেও অন্যটা ফেলে না। পুরাতন শাড়িটা, ভাঙা চুড়িটা, নষ্ট হয়ে যাওয়া মোবাইল টা কাজে লাগবেনা জেনেও তুলে রাখে,সবকিছুর কারণ হল মায়া। মেয়েরা মায়ার টানে ফেলনা জিনিসও ফেলে না 

 অসংখ্য কষ্ট, যন্ত্রণা পেয়েও মেয়েরা মায়ারটানে একটা ভালোবাসা, একটা সম্পর্ক, একটা সংসার টিকিয়ে রাখতে চায়। এই জন্য মেয়েরা মায়াবতী আর মায়াবতীর কোনো পুরুষবাচক শব্দ নেই 

 পুরুষদের আহত করার কৌশল মেয়েরা খুব তাড়াতাড়ি শিখে ফেলে এবং তা ব্যবহারও করে চমৎকার ভাবে। কেউ তার প্রতিভার বাইরে যেতে পারে না 

 ভালো মানুষের রাগ থাকে বেশি। যারা মিচকা শয়তান তারা রাগে না। পাছায় লাথি মারলেও লাথি খেয়ে হাসবে। 

 সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, তোমাকে শুধু এমন একজন কে খুঁজে নিতে হবে যার দেয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে 

 মানব জাতির স্বভাব হচ্ছে সে সত্যের চেয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিরাপদ মনে করা 

 যে নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় সুন্দর দেখায় সেই প্রকৃত রূপবতী 

 মানব জীবন হলো অপেক্ষার জীবন 

 যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না 

 মেয়েরা ব্যাক্তিগত চাহিদার কাছে কখনো পরাজিত হয় না 

 মানুষের কষ্ট দেখাও কষ্টের কাজ 

 দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে হয় না 

 নোংরা কথা শুনতে নিষিদ্ধ আনন্দ আছে, কথা যত নোংরা তত মজা 

 গার্লফ্রেন্ড বিহীন তরুনের পৃথিবীতে বেঁচে থাকা, ঘাসবিহীন মাঠে গরুর পায়চারির মত 

 প্রতিটা মেয়ে হয়ত তার স্বামীর কাছে রানী হয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু প্রতিটা মেয়েই তার বাবার কাছে রাজকন্যা হয়ে থাকে 

 যে মানুষটিকে তুমি দেখছো তাকেই যদি ভালো না বাসতে পারো, তবে তুমি কিভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসবে যাকে তুমি কোনদিন দেখোই নি? 

“ হাসি সবসময় সুখের কারণ বুঝায় না
মাঝে মাঝে এটা ও বুঝায় যে আপনি
কতটা বেদনা লুকাতে পারেন ”

 অপেক্ষা হলো শুদ্ধতম ভালোবাসার একটি চিহ্ন। সবাই ভালোবাসি বলতে পারে। কিন্তু সবাই অপেক্ষা করে সেই ভালোবাসা প্রমাণ করতে পারে না। 

 ভালোবাসা ও ঘৃনা দুটাই মানুষের চোখে লিখা থাকে!! 

 তরুণী মেয়েদের হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না। 

 এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে 

 পৃথিবীতে অনেক ধরনের অত্যাচার আছে। ভালবাসার অত্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ানক অত্যাচার। এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনো কিছু বলা যায় না, শুধু সহ্য করে নিতে হয়। 

 ভদ্র ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে কখনও প্রেম জাগে না। যা জাগে সেটা হল সহানুভূতি। 

 কাজল ছাড়া মেয়ে দুধ ছাড়া চায়ের মত 

 সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারে না। মিথ্যা বলতে হয় অন্যদিকে তাকিয়ে! 

 গল্প উপন্যাস হল অল্প বয়সী মেয়েদের মাথা খারাপের মন্ত্র 

 একজন বিবাহিত মেয়ে কোন দিনই কুমারী জীবনে ফিরে যেতে পারে না। কিন্ত কাছাকাছি হয়ত যাওয়া যায়। চেস্টা করলেই যাওয়া যায়। 

 কাউকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসার মধ্যে এক ধরনের দুর্বলতা আছে। নিজেকে তখন তুচ্ছ এবং সামান্য মনে হয়। এই ব্যাপারটা নিজেকে ছোট করে দেয়। 

 সব মানুষের জীবনেই অপূর্ণতা থাকবে। অতি পরিপূর্ণ যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে ও অতি দুঃখের সঙ্গে তার অপূর্ণতার কথা বলবে। অপূর্ণতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক ও মহা পুরুষদের।

 কিছু কিছু পুরুষ আছে যারা রূপবতী তরুণীদের অগ্রাহ্য করে একধরনের আনন্দ পায়। সচরাচর এরা নিঃসঙ্গ ধরনের পুরুষ হয়, এবং নারী সঙ্গের জন্যে তীব্র বাসনা বুকে পুষে রাখে। 

 গভীর প্রেম মানুষকে পুতুল বানিয় দেয়। প্রেমিক প্রেমিকার হাতের পুতুল হন কিংবা প্রেমিকা হয় প্রেমিকের পুতুল। দুজন এক সঙ্গে কখনো পুতুল হয় না। কে পুতুল হবে আর কে হবে সূত্রধর তা নির্ভর করে মানসিক ক্ষমতার উপর। মানসিক ক্ষমতা যার বেশী তার হাতেই পুতুলের সুতা। 

 মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই
ধরণীর আসল রূপ দেখতে পায় 

 কিছু কিছু মানুষ সত্যি খুব অসহায়। তাদের ভালোলাগা মন্দলাগা, ব্যথা বেদনা গুলো বলার মত কেউ থাকে না। তাদের কিছু অবাক্ত কথা মনের গভীরেই রয়ে যায়, আর কিছু কিছু স্মৃতি - এক সময় পরিনত হয় দীর্ঘশ্বাসে। 

 মেয়েরা গোছানো মানুষ পছন্দ করে না।
মেয়েরা পছন্দ করে অগোছালো মানুষ 

 চট করে কারো প্রেমে পড়ে যাওয়া কাজের কথা না।
অতি রূপবতীদের কারও প্রেমে পড়তে নেই।
অন্যেরা তাদের প্রেমে পড়বে, তা-ই নিয়ম। 

 মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে হালকা জিনিস নিয়ে মাতামাতি করা 

 পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয় - মানসিক কষ্ট। 

 সমুদ্রের জীবনে যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, মানুষের জীবনেও আছে। মানুষের সঙ্গে এই জায়গাতেই সমুদ্রের মিল। 

 বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে। 

 মাঝে মাঝে আত্মার সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ককেও অতিক্রম করে যায়! 

 ভাল লাগা এমন এক জিনিস যা একবার শুরু হলে সব কিছুই ভালো লাগতে থাকে। 

 ভালবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের প্রয়োজন নেই, একটি মুহূর্তই যথেষ্ট 

 গভীর ঘুমের স্বপ্নগুলি অন্যরকম হয়। স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকে না। বাস্তবের কাছাকাছি চলে যায়। হালকা ঘুমের স্বপ্নগুলি হয় হাল্কা,অস্পষ্ট কিছু লজিকবিহীন এলোমেলো ছবি। গাঢ় ঘুমের স্বপ্ন-স্পষ্ট, যুক্তিনির্ভর। 

 ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু হতে পারে, কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের প্রেমে পড়বে। হয়ত খুবই অল্প সময়ের জন্য, অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর না হয় সব সময়ের জন্য। তবে প্রেমে তারা পড়বেই। 

 জীবন সহজ নয়, জটিলও নয়-জীবন জীবনের মতো। আমরাই একে সহজ করি জটিল করি। 

 দিতে পারো একশ ফানুশ এনে?
আজন্ম সলজ্জ সাধ
একদিন আকাশে কিছু ফানুশ উড়াই 

 বোকা মানুষ গুলো হয়তো অন্যকে বিরক্ত করতে জানে। কিন্তু কখনও কাউকে ঠকাতে জানে না। 

 মা হল পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যেখানে আমরা আমাদের সব দুঃখ, কষ্ট জমা রাখি এবং বিনিময়ে নেই বিনাসূদে অকৃত্রিম ভালোবাসা 

 মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। সে চায় তাঁকে খুঁজে বের করুক। 

 ছেলেদের জন্য পৃথিবীতে সব চাইতে মূল্যবান হল মেয়েদের হাসি 

 পৃথিবীতে এমন কোনো কাজ নেই যা করলে জীবন ব্যার্থ হয়। জীবন এতই বড় ব্যাপার যে একে ব্যার্থ করা খুবই কঠিন 

 মানুষের পুরো জীবনটা হচ্ছে একটা সরল অংক। যতই দিন যাচ্ছে, ততই আমরা তার সমাধানের দিকে যাচ্ছি। 

 মানুষের সমগ্র অতীত তার চেহারায় লেখা থাকে। যারা সেই লেখা পড়তে পারে তারা মানুষকে দেখেই হুড়হুড় করে অতীত বলে দিতে পারে 

 আমার শৈশবটা কেটে গেছে দুঃখমেশানো আনন্দে-আনন্দে। যতই দিন যাচ্ছে সেই আনন্দের পরিমাণ কমে আসছে। আমি জানি, একসময় আমার সমস্ত পৃথিবী দুঃখময় হয়ে উঠবে। তখন যাত্রা করব অন্য ভুবনে, যেখানে যাবতীয় আনন্দ বেদনার জন্ম 



কফি-বিনে ...কফি-চিত্র [কুহু'র আঁকা ছবি]

শুক্রবার।
ছুটির দিনে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা যেতেই পারে। আস্তে ধীরে অব্যাস্ত ভঙ্গিতে ঘুম থেকে উঠে আরমোরা ভাংতে ভাংতে রান্নাঘরের দিকে। পা এগুচ্ছে প্রচণ্ড অনিচ্ছায়। এক কাপ কফি খেতে খেতে সকাল টা শুরু হোক তবে। 
চুলোয় তো হাড়ি চড়লো কিন্তু বিধিতে যে কফি নেই সখা। কফির কৌটায় বাসা বেঁধেছে সফেদ ফাঙ্গাস। মুখ বাঁকা করে বিরসে বকাবকি করবে এমন সময় খিল খিল করে হেসে ফেললো ফাঙ্গাসের ছেলেপুলেরা। বড্ড পাঁজি। কফি বিনে তুমুল টর্নেডো শুরু করেছে। তাদের উৎপাত কেন এক চিলতে খুশি এনে দিয়েছিল ঠোঁটে তা না হয় পরে শোনা যাবে। 
এখন চলেন দেখি কিভাবে প্রিয় বান্ধবি কুহু বানিয়ে ফেললো চমৎকার কিছু কফি-চিত্র।

ছোট বেলায় একটা লাল বেলুনে উড়তে চেয়েছিল নীল আকাশে, সেই আকাশ টা আজ এই ছোট্ট শিশুর 
বেলুন ও বাবুন
  
 ছোট বেলায় দুপুরের পড়ে অথবা ঠিক দুপুরে সে পড়ার টেবিলে পড়তো, তখন একটা ছোট্ট বিড়াল অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো আর ভাবতো "এই সময় কেউ পড়ে?" 


বিড়াল বিস্ময় 
প্রথম যখন প্রেমে পড়েছিল, খুব খুব অল্প বয়সী আহ্লাদি আর ছেলেমানুষি কাজ করতে মন চাইতো। মনে হত হাতের মধ্যে হাত রেখে হয়তো চিরকাল বসে থাকা যাবে একলা নদীর পাশে। আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে থাকা একজোড়া অবুঝ হৃদ-হস্ত।  
হৃদ-হস্ত

মাঝে মাঝে মধ্যরাতে খুব খুব একা একা লাগে, মনের মধ্যে যে ছোট্ট নদীটা আছে, সেটার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে একমনে। যতসব বড় বড় বড়-হওয়াদের সমস্যা ঝেড়ে মুছে তকতকে করে দেয় ছোট বেলার ছোট নদীটা। 

সাদা শান্ত শান্তি

হৃদ মাঝারে কয় কুঠরি,
কয়বা তাহার মহা ধমন,
এই হৃদে তো একটি আসন, 
শরীর তারেই করে বাসনা। 
হৃদ-কুঠরির কষাঘাত

কি সুন্দর না? অসাধারণ গুনী এই বান্ধবীর নাম "কুহু কিন্নরী"। যদি তপবনে হয় দেখায় কফি-চিত্রীর সনে এক পসলা বৃষ্টিতে তার অন্তত একখানা গান শুনিতে ভুলিবেন না।  

[[বিঃদ্রঃ এই গল্পগুলোর সাথে কুহুর কোনোরকম যোগ নাই। একান্তই কল্পনা বিলাস।]] 

কিংশুক
শাহজাহানপুর,ঢাকা
২০১৬ নভেম্বর ১২ শনিবার ০১৫৫ 




আমি ও আমার এগারো লাখ সহপাঠী

এই যে প্রায় ১১ লাখ পোলাপাইন আমরা ১৬ তে HSC দিলাম। সবাই উচ্চতর শিক্ষা শুরু করতে যাচ্ছি।
কিন্তু কেন?
ফিনান্সিয়াল ফিটনেস, সোশ্যাল সিকিউরিটি, সুখের সংসার এই তো? এখন অন্য কিছুও মনে হতে পারে, জ্ঞানের জন্য, ভালো লাগা কিন্তু বিশ্বাস করেন, একটা সার্টেন টাইম পরে সবই পেটের দায়ে। তা আপনি ইঞ্জিনিয়ার হন আর ডাক্তার বা ব্যাংকার ব্যবসায়ী।
ভালো ভার্সিটি তে তথাকথিত ভালো সাবজেক্ট এ ভর্তি হয়া বেপারটা কিন্তু ছেলে ভুলানো। কারণ আপনার অন্তর যা চায় না সেইটা অন্য জনের জন্য যাহাই হউক আপনার জন্য ভালো না। তাই ভালো সাবজেক্ট বা সাবজেক্ট ডিমান্ড একটা ধোঁকা। আর জব সিকিউরিটি? সেটা কখনোই সম্ভব না। পৃথিবীর কোনো কিছুই নিশ্চিত না। প্রতিবছর ১০-১১ লাখ ভাকেন্সি থাকে কি?

প্রায় ৫বছর পর কে কোথায় থাকবে কার চাকরি হবে কার কত সুন্দরী বউ বা একখানা ভালো বাসা হবে সেটা কখনোই কেউ জানতে পারবে না।
তবে আজ যদি আন্টি_এসোসিয়াশন এর মন শীতল করে তথা কথিত ভালো ভার্সিটির ভালো সাবজেক্ট এ পড়তে পারেন তবে কিন্তু সামনে ৪ বছর হেব্বি পার্ট।
এসব বাদ দেন। অন্যের ঘাড়ে আর কয়দিন? নিজের স্বপ্ন নিজে দেখেন। বিশাল বিশাল স্বপ্ন দেখেন। মানুষ তার স্বপ্ন সমান বড়। নিজে স্বপ্ন দেখেন আপনার আশেপাশের প্রিয়জনকেও স্বপ্ন দেখতে বলেন।
শুভকামনা সবার জন্য। সবার স্বপ্ন সুন্দর হোক, সুন্দর স্বপ্ন বাস্তব হোক।
এ এফ কিংশুক

এইচএসসি১৬, ঢাকা কলেজ।

২০১৬ অক্টোবর ১৮ মঙ্গলবার